ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয়ের পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির পাশাপাশি শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আরেক আয়োজন—প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবন প্রস্তুতকরণ।
প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি বাসভবন গণভবন বর্তমানে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—নতুন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কোথায়?
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা-কেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতির কাজ চলছে; প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো চাহিদা থাকলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, অতীতে তিনজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান যমুনায় অবস্থান করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সংসদ ভবন চত্বরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ডিসেম্বরে তা বাতিল করা হয়।
নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফিরে তিনি বর্তমানে গুলশানে তার মা খালেদা জিয়া-র বাসভবন ‘ফিরোজা’র পাশের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠেছেন। তবে আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা ও গুলশান থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের দূরত্ব বিবেচনায় সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনও প্রস্তুত করা হয়েছে। অতীতে ১৯৯১-৯৬ সময়কালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া ওই বাসভবনে অবস্থান করেছিলেন। তবে ২০০১ সালের পর থেকে কোনো বিরোধী দলীয় নেতা সেখানে ওঠেননি।
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র শীর্ষ নেতারা সরকারি গাড়ি-বাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন—ফলে বিরোধী দলীয় নেতার বাসভবন বাস্তবে কে ব্যবহার করবেন, সেটিও এখন আলোচনায়।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের শপথের আগেই রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বার্তার সমন্বয়ে সরকারি বাসভবনগুলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। সিদ্ধান্ত এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়।
