স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এখন বাংলাদেশে: নতুন যুগে প্রবেশের ঘোষণা

মাইশা তাসনিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) এই সেবার অফিসিয়াল রিসেলার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছানোর দ্বার খুললো।

১৮ জুলাই, শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ও নীতিনির্ধারক অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব অনুষ্ঠানে বলেন,

আজ আমরা ডিজিটাল স্বাধীনতার এক নতুন যুগে প্রবেশ করলাম। এখন আর কোনো সরকার নির্বিচারে জনগণকে বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা রাখবে না।

তিনি জানান, ইন্টারনেট বন্ধে সরকারের একচেটিয়া ক্ষমতা প্রতিরোধে একটি নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে, যা দ্রুত কার্যকর হবে। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন গত বছরের ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’-এর কথা, যেখানে গোটা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষায়, সেই সময় মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটেছে। আজকের এই উদ্যোগ সেই অধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি শক্ত প্রতিক্রিয়া।

স্পেসএক্স-এর গ্লোবাল বিজনেস অপারেশনস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার বলেন,

বাংলাদেশ দেখিয়েছে কীভাবে সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রযুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব। ফেব্রুয়ারিতে আলোচনা, মে-তে অনুমোদন আর জুলাইতে সেবা চালু — এ গতি বিশ্বের খুব কম দেশই দেখাতে পারে।

তিনি স্টারলিংককে “শুধু প্রযুক্তি নয়, একটি পরিবর্তনের মাধ্যম” হিসেবে অভিহিত করেন। “গ্রামীণ শিক্ষা, টেলিমেডিসিন ও ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য এটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”

স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে যুক্ত হচ্ছে শুধুমাত্র বিএসসিএল নয়, দেশের আরও অনেক দেশীয় অংশীদারও। প্রযুক্তির গতি ও ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশের দুর্গম এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল ও নেটওয়ার্কবিহীন এলাকাগুলোতেও দ্রুত সংযোগ পৌঁছাতে কাজ চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্বে) জহিরুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইমাদুর রহমানসহ আরও অনেকে।

স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে শুধু সংযোগ নয়, খুলে যাবে অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যসেবার নতুন পথ। টেলিমেডিসিন, অনলাইন শিক্ষাকেন্দ্র এবং রিমোট চাকরির সুযোগের মধ্য দিয়ে দেশের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠী জাতীয় উন্নয়নে আরও সরাসরি অংশ নিতে পারবে।

এই উদ্ভাবনী যাত্রা শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়—এটি বাংলাদেশের এক নতুন ডিজিটাল চেতনা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *