পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট আত্নসাৎ: বিচার বিভাগের আস্থাভঙ্গ নাকি রাজনৈতিক পুরস্কার?

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

পূর্বাচলের সেক্টর ১–এর ২০১ নম্বর রোডের একটি প্লটে আজ ভাড়া থাকেন ভিটেহারা মানুষ মোরশেদ ও তাঁর পরিবার। সেই প্লটটির মালিকানা, সরকারি নথি অনুযায়ী, সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নামে। তবে তাঁকে বহু বছর ধরে এলাকায় দেখা যায়নি। মোরশেদের স্ত্রীর ভাষায়,

খায়রুল সাহেব বহুদিন আসে না, তাই আমরা টিনের ঘর তুলে থাকছি।

তবে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, খায়রুল হক এই ১০ কাঠার প্লট পেয়েছেন চূড়ান্ত অনিয়ম আর ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে।

২০০৩ সালে বিচারপতি কোটা অনুযায়ী প্লট বরাদ্দ পেলেও নিয়মমাফিক কিস্তি না দেওয়ায় সেই বরাদ্দ স্থগিত করে রাজউক। কিন্তু ২০০৯ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের সক্রিয় হন খায়রুল হক। এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায়, পুরোনো সেই বরাদ্দ পুনর্বহাল করিয়ে মাত্র ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বাগিয়ে নেন ওই সময়কার বাজারমূল্যে প্রায় ২০ লাখ টাকার প্লটটি।

দুদকের অভিযান চালিয়ে রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও যোগসাজশের প্রমাণ পেয়েছে। অনুসন্ধানকারী দলের ভাষায়, এটি “বিধি বহির্ভূত বরাদ্দ”।

দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির এক নেতার মতে,

১০ কাঠার প্লট নয়, বড় অপরাধ হলো এই বিচারপতির রাজনৈতিক ভূমিকা। তিনি শুধু প্লট নয়, পুরো বিচার ব্যবস্থাকেই বিকিয়ে দিয়েছেন। জাতি তাঁকে কখনো ক্ষমা করবে না।

উল্লেখ্য, এবিএম খায়রুল হক ছিলেন সেই প্রধান বিচারপতি, যিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর দেওয়া রায়কে আজও বহু রাজনৈতিক সংগঠন “গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র” হিসেবে অভিহিত করে থাকে।

৫ আগস্টের পর থেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এই বিচারপতির বিরুদ্ধে গ্রেফতারের দাবি তুলেছে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন দল ও সংগঠন। তাদের মতে, বিচার বিভাগের আস্থাভঙ্গকারী এই ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে না পারলে দুর্নীতির শেকড় কখনও কাটবে না।

এই প্রশ্ন এখন সামনে—

একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির যদি ক্ষমতার জোরে প্লট দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের আশ্রয় আর কোথায়?

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *