মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের ওপর চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলার আগে মার্কিন হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল, তারা কাতারকে হামলার বিষয়ে আগেই অবহিত করেছিল। তবে কাতার সরকার এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, “ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত কাতারকে পূর্বেই জানিয়েছিলেন। তবে দোহায়, কাতারের ভেতরে একতরফাভাবে বিমান হামলা চালানো, যে দেশ আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং শান্তি আলোচনায় ঝুঁকি নিচ্ছে, তা আমাদের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক নয়।” তিনি আরও বলেন, “হামাসকে নির্মূল করা অবশ্যই একটি লক্ষ্য, কারণ তারা গাজার জনগণের দুর্ভোগ থেকে মুনাফা করেছে।”
অন্যদিকে, কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা যে কলটি আমেরিকান কর্মকর্তার কাছ থেকে পেয়েছি, তা হামলার সময়কার বিস্ফোরণের শব্দের মধ্যেই এসেছিল। কোনো পূর্বনির্ধারিত সতর্কবার্তা আসেনি।”
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় তাদের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে মূল আলোচক দল বেঁচে গেছে। নিহতদের মধ্যে একজন কাতারী নিরাপত্তা কর্মকর্তাও রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া ও কাতার–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে। হামলার সময় কাতারের ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
