বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন বলেছেন, পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) নির্বাচনী পদ্ধতি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন এবং কড়া ভাষায় বলেন,
জীবন দেব তবু ৭১ ও ২৪ রাজাকারদের হতে দিব না।
তিনি বলেন, যদি কোনো দলের ভোট সম্ভাব্য শতাংশ দেশের মোট নিবন্ধিত ভোটারের খুবই নগণ্য অংশ হয়ে থাকে, তৎক্ষণাৎ পিআর পদ্ধতিতে দেশদ্রোহী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সহজে ক্ষমতায় অবস্থান করে নিতে পারে — এমনভাবে আঁতাত করে যে নিজেদের ভোটভিত্তির উপর ভিত্তি করে বড় দলের ভোট কাস্টিংয়ের ফলে ক্ষমতা দখল বা দেশের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাইয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেন, সংখ্যায় অল্প হলেও দেশে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী রয়েছে — যাদের মধ্যে কেউ স্বশস্ত্র বা তত্ত্বচিন্তায় বিশ্বাসী; পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, গত দেড় দশক ধরে কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে ‘বিদেশী পৃষ্ঠপোষণ’ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থনের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ইশরাক প্রশ্ন তোলেন, যদি পিআর সিস্টেম ব্যবহার করে রাজ্যপাল-সদৃশ কোনো গোষ্ঠি সংসদে গড়ে ওঠে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তাহলে কোথায় দাঁড়াবে দেশের সার্বভৌম অখণ্ডতা?
তিনি আরও লিখেছেন যে, এই দুই কারণ মিললে—অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রকারী ও বাহ্যিক পৃষ্ঠপোষকতা—মিলে স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিবেশী দেশ ও বিশ্বশক্তিরাও নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারে।
ইশরাক তার পোস্টে অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, যারা কখনো স্বাধীন বাংলাদেশ চায়নি বা বর্তমানকালে দেশকে বিক্রি করেছে—তারা ক্ষমতার লোভে বিকৃত হয়েছে; সেই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানপন্থী ও ‘ভারতপন্থী’ কিছু গোষ্ঠীর যে মিশ্রণ ঘটেছে, তাও তিনি উদ্বেগজনক উল্লেখ করেছেন।
পোস্টের শেষভাগে ইশরাক দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন,
দেশবিরোধী কাজ যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণ ব্যবস্থা নেবে। দেশের জন্য জীবন দেবো, তবুও একাত্তর আর চব্বিশ—এই দুই প্রজাতির রাজাকারদের মতো কাউকে দেশের বিরুদ্ধে যাবার সুযোগ দেব না।
তাঁর এই ঘোষণায় রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত মেলে।
ইশরাকের বক্তব্যটি দেশের নির্বাচনী পদ্ধতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা নিয়ে বহুল বিতর্কের সূচনা করতে পারে—বিশেষত যখন পিআর পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র। বাংলাদেশের নির্বাচন ও সংবিধানগত বিষয়াবলীতে পদ্ধতিগত পরিবর্তন হলে এর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক প্রভাবের ব্যাপক পর্যালোচনা প্রয়োজন হবে।
