বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে জানা গেল ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণ

2 Min Read

বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারত। দেশটি গতকাল শনিবার (১৭ মে) জানায়, তাদের স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানি করা যাবে না।নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পোশাক কিনতে চাইলে কলকাতা ও মহারাষ্ট্রের নাভা শেভা সমুদ্র বন্দর দিয়ে আনতে হবে ভারতীয় আমদানিকারকদের।ভারতের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের ৪২ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রভাব পড়বে, যার পরিমাণ প্রায় ৭৭০ মিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য বিষয়ক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় রপ্তানির ওপর ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বাধা এবং চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে চাওয়ায় এমনটি করেছে ভারত।

এছাড়া চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি নয়াদিল্লি। দেশটির গতকালের এ সিদ্ধান্ত সেটিরও প্রতিক্রিয়া, বলেছে জিটিআরআই।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে বাংলাদেশ ভারতীয় রপ্তানির ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে এপ্রিল ২০২৫ থেকে প্রধান স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে ভারতীয় সুতা আমদানি নিষিদ্ধকরণ, চাল আমদানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং কাগজ, তামাক, মাছ ও গুঁড়ো দুধ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো।

এছাড়া বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রতি টন ভারতীয় পণ্যের ওপর কিলোমিটার প্রতি ১ দশমিক ৮ টাকা হারে ট্রানজিট ফি ধার্য করেছে ঢাকা। বাংলাদেশের এসব পদক্ষেপের কারণে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানায় সংস্থাটি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শর্তাবলী কেবল নিজেদের সুবিধার জন্য বেছে নিতে পারে না বলে জানান দেশটির এক কর্মকর্তা। ভারতের গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বিধিনিষেধের কারণে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছ।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে ভারত। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের কোনও শুল্ক পয়েন্টে— পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা এবং ফুলবাড়ি শুল্ক পয়েন্ট দিয়ে ফল, ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কার্বনেটেড পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, তুলার বর্জ্য, প্লাস্টিকের পণ্য (পণ্য তৈরির জন্য নির্দিষ্ট উপকরণ ব্যতীত) এবং কাঠের আসবাবপত্র আমদানি করা যাবে না।

সূত্র: ইকোনমিক টাইমস

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *