৪ই জুন শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা

কাজী মাশিয়াত, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

মক্কা, সৌদি আরব থেকে—চলতি বছরের পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আগামী ৪ জুন, যা ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের ৮ তারিখ।

সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এ ঘোষণা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিটি গতকাল প্রকাশ করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA)।

ইতিমধ্যেই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এক মিলিয়নের বেশি হজযাত্রী পবিত্র ভূমি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী তৌফিক আল-রাবিয়াহ। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হজ—শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রতিটি মুসলমানের জীবনে একবার পালন করা ফরজ। প্রতিবছরের মতো এবারও হজের আনুষ্ঠানিকতা জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত চলবে।

এই সময় হাজিরা মিনায় অবস্থান, আরাফাতে সমবেত হওয়া, মুজদালিফায় রাত যাপন, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ এবং কোরবানি প্রদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

বিশেষ করে জিলহজের ৯ তারিখ—এ বছর ৫ জুন—হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন ‘আরাফার দিন’। লাখ লাখ হাজি সেদিন আরাফাতের ময়দানে জমায়েত হয়ে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করেন এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ স্মরণ করেন। ঐতিহাসিক এই আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে মুমিনেরা আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আরাফাতের পরদিন অর্থাৎ ৬ জুন সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে। বিশ্ব মুসলিম এই দিনে কোরবানি দিয়ে হজের গুরুত্বকে নতুন করে উপলব্ধি করেন।

হজের অংশ না হলেও, অনেক হজযাত্রী মদিনা নগরীতে গমন করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত করেন। আত্মিক প্রশান্তির জন্য এই সফর হাজিদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

গত বছর ২০২৪ সালে প্রায় ১৮ লাখ মুসলমান হজে অংশ নিয়েছিলেন। তবে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে সৌদি আরবে তাপমাত্রা উঠেছিল ৫১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, ফলে গরম ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ১,৩০০-এর বেশি হাজি মৃত্যুবরণ করেন। এ বছরও স্বাস্থ্য সতর্কতা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সৌদি সরকার এবার হাজিদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় জোর দিয়েছে। হজে আগত প্রত্যেককে স্বাস্থ্য পরিচর্যা, খাদ্য-আবাসন এবং ধর্মীয় নির্দেশনা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে বহু স্বেচ্ছাসেবক ও আধুনিক অবকাঠামো।

২০২৫ সালের পবিত্র হজ ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ, আত্মশুদ্ধি এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য অভিব্যক্তি হয়ে উঠতে চলেছে। ইতিহাস, বিশ্বাস ও আত্মার মিলনস্থল পবিত্র হজে অংশ নিতে যাওয়া লাখো মুসলমান এখন আল্লাহর ঘরের দিকে যাত্রা করছেন এক পবিত্র অভিযাত্রায়।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *