উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ১, বার্ন ইউনিটে ২৫ জন; এলাকাজুড়ে আতঙ্ক, ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন কলেজ সংলগ্ন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর চিৎকার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই বিকট শব্দে আকাশ থেকে একটি বিমান নিচে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই আগুন জ্বলতে শুরু করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এলাকাবাসী দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছেন, আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলি।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এছাড়া দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ২৫ জন, যাদের সবাইকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আইএসপিআর (আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর) জানিয়েছে, বিধ্বস্ত প্রশিক্ষণ বিমানটির পাইলট ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর। ঘটনার সময় তিনি একাই বিমানে ছিলেন। তার খোঁজে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের উত্তরা, টঙ্গী, পল্লবী, কুর্মিটোলা, মিরপুর ও পূর্বাচল ইউনিট থেকে মোট ৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে ২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বিমানের জ্বালানি বিস্ফোরণ ও পার্শ্ববর্তী স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

মাইলস্টোন কলেজের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, “ঘটনাটি আমাদের ক্যাম্পাসের কাছাকাছি জায়গায় ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা তখন ক্লাসে ছিল। একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরও অনেকে আহত হয়েছেন।”

ঘটনার ভিডিও ও ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে বিধ্বস্ত বিমান থেকে দাউ দাউ করে আগুন ছড়াচ্ছে, দূরে দাঁড়িয়ে আতঙ্কিত জনতা চিৎকার করছে, অনেকে দগ্ধদের উদ্ধার করতে ছুটে আসছে।

উত্তরা ও দিয়াবাড়ি এলাকার ট্রাফিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরবন্দি। বিমান চলাচল পরিস্থিতি নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে।

বাংলাদেশের সামরিক উড্ডয়ন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফ্লাইট ট্রেনিং, বিমান মান এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার ওপর নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তদন্ত শুরু হয়েছে, কিন্তু উত্তরার মানুষের মনে যে ভয় ও দুঃখের ছাপ রেখে গেল এই দুর্ঘটনা—তা সহজে মুছে যাবে না।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *