ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নতুন রিপোর্টে দেখা গেছে, গত এক বছরে দেশে ৪৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২১ জন নিহত ও ৫,১৮৯ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ৯২% ঘটনায় জড়িত, আওয়ামী লীগ ২২%, জামায়াত ৫% ও এনসিপি ১%।
বাংলাদেশে গত এক বছরে রাজনৈতিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি সহিংসতায় জড়িত।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ৪৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১২১ জন নিহত এবং ৫,১৮৯ জন আহত হয়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতায় বিএনপির সম্পৃক্ততা সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ। আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা ২২ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৫ শতাংশ এবং এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) ১ শতাংশ ঘটনায় জড়িত। বেশিরভাগ সহিংসতা ঘটেছে রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে সড়ক অবরোধ, সমাবেশ ও প্রতিহিংসামূলক হামলার সময়।
গবেষণায় উঠে এসেছে, রাজনৈতিক সহিংসতা শুধু প্রাণহানি ঘটায়নি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশেও মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ব্যবসা ও পরিবহন খাতে জোরপূর্বক আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিরাপদ করে তুলেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাজনৈতিক সহিংসতা এবং দুর্নীতি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। দলের অভ্যন্তরীণ অশৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো কার্যকর রোডম্যাপ ছাড়া নিলে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসবে না। দলীয় আধিপত্য ও সহিংস রাজনীতি অব্যাহত থাকলে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।”
মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বলছে, গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
টিআইবি মনে করে, রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে দলীয় সংস্কার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। একইসঙ্গে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক অশান্তি কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি দমন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
