কৃষিখাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার কড়া বার্তা দিলেন সরকারের কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে সারের ডিলারশিপ কিংবা লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং একমাত্র বিবেচ্য হবে যোগ্যতা ও দক্ষতা।
সোমবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কৃষি খাতের বিভিন্ন অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় উপদেষ্টা জানান, বিগত সময়ে যেসব ব্যক্তি সারের লাইসেন্স নিয়ে অনিয়ম বা জটিলতার জন্ম দিয়েছেন, তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন ও যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
তিনি বলেন,
সারের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা একেবারে নতুনভাবে যাচ্ছি। এখানে আমরা কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনাকে জায়গা দিচ্ছি না। বরং যিনি সৎ, যিনি কৃষকের পাশে থাকবেন—তাকেই আমরা ডিলার হিসেবে চাই।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও জানান, খুব শিগগিরই সারের ডিলারশিপ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। এতে যোগ্যতা, পূর্ব অভিজ্ঞতা, সেবাদানের পরিসরসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ডিলার নির্বাচন করা হবে।
তিনি বলেন,
আমরা এমন একটি কাঠামো দাঁড় করাতে চাই, যেখানে ডিলাররা কৃষকের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবেন, ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে কৃষক জিম্মি হবে না।
সারের ঘাটতির গুজব ভিত্তিহীন
সারের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও কৃষি উপদেষ্টা তা নাকচ করে দিয়ে বলেন,
দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই, বরং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত সংকট হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
তবে তিনি স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বেড়েছে। এ কারণে সরকার বিকল্প উৎস খুঁজছে এবং যেসব দেশের কাছ থেকে কম দামে সার পাওয়া যেতে পারে, তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
গম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় অনেক কম গম উৎপাদিত হয়। তাই আমাদের আমদানির ওপর নির্ভর করতেই হয়। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।”
কৃষিখাতে দীর্ঘদিনের একটি অভিযোগ—রাজনৈতিক বিবেচনায় অনির্ভরযোগ্য ও সুবিধাভোগীরা সারের ডিলারশিপ পেয়ে যান। এবার সেই চক্রে কাটছাঁট শুরু হয়েছে বলেই মনে করছে কৃষিবিষয়ক মহল। উপদেষ্টার এই ঘোষণায় মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা ফেরানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও—বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, তা দেখার অপেক্ষা।
