পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দুই দিনের সফরে শনিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকায় আসছেন। সফরকালে তিনি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা করবেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করতে চাচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, অন্তত ছয়টি ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে— কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা চুক্তি, দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (BIISS) এবং পাকিস্তানের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ও পাকিস্তানের সংবাদ সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি এবং সাংস্কৃতিক সমঝোতা স্মারকের নবায়ন।
এই সফরে ইসহাক দার বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চায়। এর আগে চীনও বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছিল।
একজন সাবেক কূটনীতিকের মতে, “এটি সম্পূর্ণ নতুন উদ্যোগ নয়। বড় শক্তিগুলোর মতো পাকিস্তানও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।” তবে আরেকজন কূটনীতিক মনে করিয়ে দেন, পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলনামূলক দুর্বল। তাই চীনের মতো গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
