বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্থবির বাণিজ্য সম্পর্ক আবারও সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় দশক অকার্যকর থাকার পর পুনরায় কার্যকর করা হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন। পাশাপাশি গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন একটি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন, যার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
সম্প্রতি দুই দেশের বাণিজ্য নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বৈঠকে উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের আরোপিত হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে চামড়া ও চিনি শিল্পের উন্নয়নে পাকিস্তানের সহায়তা এবং স্থানীয়ভাবে চিনি উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের অনুরোধে পাকিস্তান ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া অতীতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ১ কোটি কেজি চা ডিউটি ফ্রি আমদানির যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেটি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার ফুড অ্যান্ড ইন্টারমেডিয়েট পণ্য। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এ খাতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। কৃষি ও খাদ্যপণ্য, ফল আমদানি-রপ্তানি, মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদনে যৌথ বিনিয়োগ—সবকিছু নিয়েই নতুন কমিশনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যে বাংলাদেশ কারও প্রতি এককভাবে ঝুঁকছে না। দেশের স্বার্থ যেখানে থাকবে, সেখানেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভারত, পাকিস্তান বা যুক্তরাষ্ট্র—সব জায়গায়ই প্রয়োজন অনুযায়ী বাণিজ্য বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গত দেড় দশকে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য কার্যত স্থবির ছিল। এখন নতুন কমিশনের মাধ্যমে শুধু আমদানিই নয়, রপ্তানি বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন সুযোগ পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
