মানুষের পথচলায় সবসময়ই কিছু কোলাহল থাকে—কারও শ্বাসরোধী বিদ্বেষ, কারও কটুকণ্ঠের কুক্কুর ডাক। কিন্তু ইতিহাস বলে, কুকুরেরা যতই ঘেউ ঘেউ করুক, কাফেলা নিজের পথে এগিয়ে যায়।’
Dogs will bark, but the caravan march forward’.সত্যের যাত্রা কখনো কারও চিৎকারে থামে না।
জুডাস যেমন এক টুকরো রুটির বিনিময়ে সত্যসন্ধ প্রফেট যিশুকে ধরিয়ে দিয়েছিল, তেমনি সময়ের প্রতিটি বাঁকে কিছু মুখোশধারী মানুষ থাকে যারা অল্প স্বার্থে নৈতিকতার বুকে ছুরি বসায়। আজও আমাদের চারপাশে সেই কপটতার উত্তরাধিকার বয়ে চলা মুখগুলো—হেঁড়ে গলায় নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা করে। ভাত ছিটে দিলে যেমন কাক একসাথে কা কা করে, তেমনি সত্যের আলো ফুটতে না ফুটতেই মিথ্যার ঝাঁক শুরু করে উন্মত্ত আওয়াজ।
অভাগা জাতি, বার বার পথ চলার বাঁকে বাঁকে নির্জলা মিথ্যার এই ভেলকিতে আটকে যাই। চোরা মানুষ ধর্মের কথা শোনে না, তারা শুধু সুযোগ দেখে। কিন্তু সত্যের আলোর প্রক্ষেপণ যখন একবার অন্ধকারে প্রবেশ করতে শুরু করে, তখন আঁধারের জীবেরা আর দাঁড়াতে পারে না। তারা ইতিহাসের লক্ষণ সেনের মতো পেছনফরজা দিয়ে পালায়, কারণ আলো তাদের সহ্য হয় না।
এদিকে বখতিয়ারের ঘোড়া ছুটে চলছে—এ ঘোড়া ন্যায়ের, সত্যের সারথী। এর পায়ের শব্দ কারও ইর্ষা, কারও চিৎকার, কারও ষড়যন্ত্র দিয়ে থামানো যায় না।
সত্যের কাফেলা চলছে, চলবে—দৃঢ়, অবিচল, অবিনাশী। আসুন আলোর সুনামী যখন আসে, আমরা দুয়ার খুলে দেই, আলোর সুনামিতে স্নাত হই। সরীসৃপ আলোর ঝলকানিতে ঊর্ধশ্বাসে পালিয়ে যাবে, তাকে যেতে দিন।
লেখক: কাজী জিয়া উদ্দিন, ডিআইজি (এইচ আর), পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ঢাকা
