বিশ্বজুড়ে সামাজিক ব্যবসা ও মাইক্রোক্রেডিটের অগ্রদূত, নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জাপানের সোকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে।
সামাজিক উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
শুক্রবার (৩০ই মে), টোকিওতে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অথচ মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সম্মাননা প্রদান করে।
সোকা বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, মাইক্রোক্রেডিটের ধারণা বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিপ্লব ঘটিয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসার ধারণা উন্নয়নের নতুন পথ দেখিয়েছে। এই বৈপ্লবিক চিন্তাধারার স্বীকৃতিস্বরূপই তাঁকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।
পুরস্কার গ্রহণের পর দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তাঁরা মানবিক উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। তিনি বলেন,“
বিশ্বব্যবস্থাকে কেবল মুনাফাভিত্তিক কাঠামোতে পরিচালিত করা চলবে না। এমন এক সমাজ গড়তে হবে, যেখানে মানুষের সৃজনশীলতা, সহযোগিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ হবে উন্নয়নের চালিকাশক্তি।”
এ সফরের অংশ হিসেবেই তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।
বিশেষভাবে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের চলমান বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় জাপানের সহযোগিতা। এই প্রেক্ষাপটে জাপান সরকার বাংলাদেশের জন্য ১.০৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা এবং রেলখাতে উন্নয়নের জন্য অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।
ড. ইউনূসের এই সফর ছিল অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ ও ফলপ্রসূ। তিনি বিভিন্ন জাপানি বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যেখানে বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং শিক্ষা-প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই চার দিনের সফর শেষে ড. ইউনূস আগামী ৩১ মে শনিবার সকালে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে টোকিও ত্যাগ করবেন এবং ওইদিন গভীর রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৭ মে তিনি জাপানে সরকারি সফরে পৌঁছান। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের এই সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। একজন নোবেল বিজয়ী ও প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকায় তাঁর উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, অর্থনৈতিক সমঝোতা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি — সব মিলিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই জাপান সফরকে একটি অসাধারণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সফলতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
