বিকাশ ও এনআইডি বিতর্ক: ‘ভিত্তিহীন বিভ্রান্তি’ দাবি জামায়াতের

ফরহাদ হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধি

2 Min Read

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও এনআইডি সংগ্রহের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য।

এদিন বিকেল ৩টায় জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে যায়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং সাবেক সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম। বৈঠকে তারা চলমান নির্বাচনী প্রচারণার পরিবেশ ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বৈঠক শেষে জুবায়ের বলেন, বিকাশ নম্বর ও এনআইডি চাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও সন্দেহ তৈরি করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তার ভাষায়,

এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হলে ভোটাররা আতঙ্কিত হবে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

তিনি নির্বাচনী পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের একটি অংশ নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছে।

এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জামায়াতের পক্ষ থেকে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হয়। জুবায়ের বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে অনিয়মের অভিযোগ কমবে এবং ভোটারদের আস্থা বাড়বে।

উল্লেখ্য, এর আগে একজন বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, জামায়াতের কর্মীরা ভোটারদের বাড়ি গিয়ে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। সেই অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। জামায়াতের সর্বশেষ বক্তব্য সেই অভিযোগের সরাসরি প্রতিবাদ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই মাঠপর্যায়ের অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও আশঙ্কা বাড়ছে। বিকাশ ও এনআইডি বিতর্ক সেই বাস্তবতারই আরেকটি প্রতিফলন—যা নির্বাচন কমিশনের জন্যও বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *