ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মারাত্মকভাবে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এশিয়াজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি দেশের বিমানবন্দরে যাত্রীদের ওপর বাড়তি স্ক্রিনিংসহ উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানায় বিবিসি।
চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের সংস্পর্শে আসা অন্তত ১১০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
নিপাহ ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে এবং এতে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে এ ভাইরাসের কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
ভারতে সংক্রমণের খবরের পর এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বাড়তি স্ক্রিনিং চালু করা হয়েছে।
এছাড়া ভারতের সীমান্তবর্তী দেশ নেপালও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত যাত্রীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত স্থলবন্দরগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাস মূলত বাদুর ও শূকরের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এছাড়া সংক্রমিত খাবার গ্রহণ বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেও মানুষে মানুষে ছড়াতে পারে এই ভাইরাস।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যে ১০টি রোগকে সম্ভাব্য মহামারির ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, নিপাহ ভাইরাস তার অন্যতম। সংস্থাটির মতে, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না হলে এটি বড় ধরনের বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, বমি ও গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তন্দ্রাচ্ছন্নতা, চেতনার পরিবর্তন ও নিউমোনিয়ার লক্ষণও দেখা যায়। গুরুতর অবস্থায় রোগী এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হতে পারেন, যা মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। পরে এটি পার্শ্ববর্তী সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়ে। যে গ্রামে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছিল, সেই গ্রামের নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয়।
