ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর -এর একটি ধর্মীয় পরিবারে ১৯৩৯ সালের ১৯শে এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন । আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।
তার বাবা ছিলেন স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত একজন শিয়া পণ্ডিত। মা ছিলেন ধার্মিক নারী। শৈশবে মায়ের কাছেই কোরআন শিক্ষা ও ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন আলী খামেনি। নিজের স্মৃতিকথায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার মা কোরআন তেলাওয়াতে অত্যন্ত সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন এবং তার চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা ছিল ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।
চার বছর বয়সে বড় ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় একটি মক্তবে পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি স্মৃতিচারণায় লিখেছেন, মক্তবের শিক্ষককে তিনি ভয় পেতেন, কারণ প্রতি শনিবার শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে প্রহার করা হতো।
শৈশব কেটেছে দারিদ্র্যের মধ্যে। স্মৃতিকথায় তিনি উল্লেখ করেছেন, অনেক সময় না খেয়েই ঘুমাতে যেতে হতো। পুরোনো ও মলিন পোশাকের কারণে সহপাঠীদের কটাক্ষের শিকার হতেন। ছোটবেলায় তার একজোড়া ফিতাওয়ালা জুতার প্রতি বিশেষ আকাঙ্ক্ষা ছিল।
মক্তবের পর স্থানীয় বিদ্যালয়ে ভর্তি হন, যদিও তার বাবা পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করতেন। ছোটবেলা থেকেই তার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল ছিল; ফলে শ্রেণিকক্ষে ব্ল্যাকবোর্ড স্পষ্ট দেখতে পেতেন না।

রাজনৈতিকভাবে তিনি প্রভাবিত হন -র ইসলামী ভাবধারা থেকে। ইরানের শাহ -র বিরুদ্ধে আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেন এবং একাধিকবার গ্রেফতার হন।
বিপ্লবের আগে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত মাশহাদকেন্দ্রিক ছিল। ১৯৭৭ সালে তিনি পরিবারসহ -এ চলে যান। একই বছরের ডিসেম্বরে গ্রেফতার এড়াতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থান নেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি তেহরানে ফিরে এসে বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পান। পরে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই বাহিনী পরবর্তীতে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
১৯৮১ সালের জুনে তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন; তার ডান হাত আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দুই মাস পর বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় প্রেসিডেন্ট নিহত হন। তার মৃত্যুর পর আলী খামেনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং আট বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
এই সময় প্রধানমন্ত্রী -র সঙ্গে তার মতবিরোধ দেখা দেয়।
১৯৮৯ সালের জুনে রুহোল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ আলী খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে। সংবিধানে প্রয়োজনীয় ধর্মীয় পদমর্যাদা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পরবর্তীতে সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে তার নেতৃত্ব নিশ্চিত করা হয়। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে প্রেসিডেন্টের হাতে অধিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।

দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করেছেন, যার মধ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট -ও রয়েছেন।
একাধিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন।
