আচরণবিধি লঙ্ঘন: সারজিস আলম ও নওশাদ জমিরকে শোকজ

নিজস্ব প্রতিনিধি

2 Min Read

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পঞ্চগড়-১ আসনের দুই প্রার্থীকে পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

শোকজপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১০ দলীয় জোটের শাপলা কলির প্রার্থী সারজিস আলম এবং বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় সারজিস আলম তার নির্বাচনী জোটপ্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করেন। অথচ নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী কেবল নিজ দলীয় প্রধানের ছবি ও প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। নিজ দলীয় প্রধান ব্যতীত অন্য রাজনৈতিক নেতার ছবি ব্যবহার করায় আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে তিনটি তোরণ নির্মাণ করা হয়, যা আচরণবিধিমালার বিধি ১৩(ক) লঙ্ঘনের শামিল। একই সঙ্গে ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল না করেই নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়েছে, যা বিধি ১৬(ক) লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, পঞ্চগড় পৌর এলাকায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পৌরসভার যৌথ অভিযানের সময় তার কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়ে।

নোটিশ অনুযায়ী, বিধি লঙ্ঘন করে নির্মিত তোরণ ও ফেস্টুন অপসারণকালে তার কর্মী-সমর্থকরা বাধা প্রদান ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পাশাপাশি অনুমোদিত আকারের পরিবর্তে বড় আকারের ফেস্টুন ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া ফেসবুক আইডি দাখিল না করে প্রচারণা চালানো, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েত এবং সরকারি গণভোটের প্রচারণার ব্যানার ছেঁড়ার হুমকির অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড আচরণবিধিমালার একাধিক ধারার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নোটিশে উভয় প্রার্থীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শোকজপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *