ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিচারকসহ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৮ কর্মকর্তাকে একযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা দেশের বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনে চরম আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে, জনস্বার্থে এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী এই ১৮ বিচারককে অবসর প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা সরকারি বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন। অবসরের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন:
- জেলা ও দায়রা জজ বিকাশ কুমার সাহা
শেখ মফিজুর রহমান
মাহবুবার রহমান সরকার
শেখ গোলাম মাহবুব
মজিবুর রহমান
এহসানুল হক
জুয়েল রানা
মনির কামাল
সহিদুল ইসলাম
আল মাহমুদ ফায়জুল কবীর
মো. নাজিমুদ্দৌলা
এ কে এম মোজাম্মেল হক চৌধুরী
ফজলে এলাহী ভূইয়া
আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান
মো. রুস্তম আলী
নুরুল ইসলাম
এ কে এম এনামুল করিম
মোহাম্মদ হোসেন
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বুধবার (৯ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্ত বিচারকদের অপসারণের দাবি জানায়। এর পরদিনই সরকার এই অবসরের সিদ্ধান্ত কার্যকর করল।
তবে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে রাজি হননি। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “এটি জনস্বার্থে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা আইনি চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ বিচার বিভাগে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রয়াস হতে পারে, আবার এটি রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কাও তৈরি করছে। কারণ, অবসরে যাওয়া অনেক বিচারককে আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ফলে এই ঘটনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপ ‘দৃষ্টান্তমূলক’ হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই বড় সিদ্ধান্ত দেশের বিচার প্রশাসন এবং জনগণের আস্থায় কী প্রভাব ফেলে।
