টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য বার্ষিক ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ ঘাটতি পূরণ এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, চতুর্থ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সম্মেলনে গৃহীত প্রতিশ্রুতিগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করা অপরিহার্য।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিস্থাপক বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য প্রথম দ্বিবার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্থায়নে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অংশে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বকে অবশ্যই প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে হবে। বাংলাদেশে আমরা বিশ্বাস করি, দারিদ্র্য কোনো মানুষের স্বপ্নপূরণের অন্তরায় হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সম্পদের সুবিধা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নয়, ন্যায়বিচারের হাতিয়ার। নারীরা যদি ব্যবসা শুরু করতে পারে, যুবসমাজ সৌরশক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে সুযোগ পায়, কিংবা বস্তির শিশুরা পুষ্টি ও স্যানিটেশন সুবিধাসহ স্কুলে যেতে পারে—তাহলেই বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সেভিলে গৃহীত অঙ্গীকার বিশ্বকে একটি নতুন কাঠামো দিয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জোরদার, অবৈধ অর্থপাচার প্রতিরোধ, উন্নয়ন ব্যাংক শক্তিশালীকরণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
সেভিলে অঙ্গীকার আমাদের পথ দেখিয়েছে; এখন মানবতার তাগিদ আমাদের সেই পথে এগিয়ে যেতে ডাক দিচ্ছে,
মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।
জাতিসংঘ সম্মেলনে তিনি আহ্বান জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মর্যাদা, যৌথ সমৃদ্ধি ও সহনশীলতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে, যাতে কেউ পিছিয়ে না পড়ে। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকি, রোহিঙ্গা সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে থাকা দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার করা এখন জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
