আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দ্যেশ্যে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষণে আগামী নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক রূপরেখা না থাকার কারণে হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে গুলশানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বাসভবনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, সাধারণ জনগণ আশা করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে নির্বাচনের অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো রূপরেখা ভাষণে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া, জুলাই–আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মিথ্যা মামলা দায়ের করা নেতাদের মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করাও হতাশার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান এডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অন্যান্য প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ পার্টির অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতা ও কর্মকর্তারা।
সভায় এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি সবসময় নির্বাচনমুখী দল এবং বিশ্বাস করে— রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো নির্বাচন। তবে নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। তিনি আরও জানান, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাই সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোরও সহযোগিতা ও উদারতা প্রদর্শন করা অপরিহার্য।
