গণভোটে চার প্রশ্ন: নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে নতুন সাংবিধানিক কাঠামো

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে চারটি প্রশ্নে জনগণের মতামত নেয়া হবে।

তিনি জানান,

গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারিত হবে। জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।

যে চার প্রশ্নে ভোট দেবেন নাগরিকরা

১) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
নির্বাচনকালীন সময়ের সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে কি না, তা নিয়ে জনগণের মতামত নেয়া হবে।

২) দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা
আগামী সংসদ দুই কক্ষবিশিষ্ট হবে কি না— যেখানে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য এই উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

৩️) রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন
সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সম্প্রসারণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা— এসব নিয়ে জুলাই সনদে থাকা ৩০টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে ভোট নেয়া হবে।

৪️) অন্যান্য সংস্কার প্রতিশ্রুতি
রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে জুলাই সনদের অন্যান্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সেটিও গণভোটের অন্তর্ভুক্ত।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোটের দিন এই চারটি বিষয় একত্রে একটি প্রশ্নে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে মতামত জানাবেন।

তিনি আরও বলেন,

যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। পরিষদ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে।

সংস্কার কার্যক্রম শেষ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যার মেয়াদ নিম্নকক্ষের সঙ্গে সমন্বিত থাকবে।

 জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার অনুযায়ী সংবিধানে এর বিধান সংযোজনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। অনুমোদিত আদেশে এ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই গণভোট শুধু সাংবিধানিক কাঠামোর ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, বরং নির্ধারণ করবে গণতন্ত্রে জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ কতটা গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে— সেই ঐতিহাসিক মোড়ও।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *