এক যুগ পর জামায়াতের আইনি লড়াই সফল, ইসি দিল নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের সফল পরিসমাপ্তি ঘটলো আজ রোববড় (১লা জুন)। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)।

সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

এই রায়ের ফলে ২০১৩ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নিবন্ধন বাতিলের আদেশ কার্যকর থাকবে না। তবে জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসহ অন্যান্য নির্বাচনী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ইসির ওপর ছেড়ে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

জামায়াতের পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম। দীর্ঘ ১২ বছরের আইনি লড়াই শেষে তারা আজকের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রায়ের পর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,

“সর্বোচ্চ আদালতের সর্বসম্মত রায়ের মাধ্যমে দলীয় নিবন্ধন ফিরে পাওয়ায় আমরা মহান রবের শুকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আইনি সংগ্রামের সফল পরিসমাপ্তিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেল।”

তিনি আরও বলেন,

২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধিত হয় এবং অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অংশগ্রহণ করে। এরপর ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে একটি মহল হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। হাইকোর্ট ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রায় দিয়ে নিবন্ধন বাতিল করে। আমরা সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করি। আজ আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ের মাধ্যমে সেই অন্যায় রায় বাতিল হলো।

 

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন,

আজকের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হলো। আমরা বিশ্বাস করি, এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি একটি নতুন গতিপথ পাবে ইনশাআল্লাহ।

২০০৮ সালের রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধিত হয়। ২০১৩ সালে হাইকোর্ট এক রিট মামলায় দলটির নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর ২০১৮ সালে নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন দিয়ে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে। আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়ার আইনগত সমাপ্তি ঘটলো।

এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো জামায়াতের প্রতীক ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এসব বিষয়ে কমিশনের নিজস্ব বিবেচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

এই রায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা আগামী জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *