‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির এই ধরনের আদেশ জারির ক্ষমতা নেই।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ভাষণ প্রদানের পর নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
রাষ্ট্রপতি কেবল অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ‘আদেশ’ জারি করা সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে পড়ে। এর বৈধতা নিয়েই বড় প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
যদি এটি সাধারণ প্রজ্ঞাপন বা নোটিফিকেশন হতো, তাহলে আমরা এই প্রশ্ন তুলতাম না। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রপতির এমন আদেশ দেওয়া সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
এ সময় বিএনপি নেতা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়েও আপত্তি জানান। তার দাবি, ঐকমত্য কমিশনের কোনো আলোচনায় এই পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
প্রধান উপদেষ্টা মূল দলিল থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন,
—মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
দলটির আরেকাধিক নেতা জানান, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তাবটি ইতিবাচক হলেও ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এ উল্লেখ করা আপত্তিগুলোর বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তাদের অভিযোগ, এসব বিষয় উপেক্ষা করে সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করলে তা রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপির এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য এখনো দূরবর্তী—এবং বাস্তবায়নের আগে সরকারের উচিত হবে আইনি প্রক্রিয়া ও অংশীজনের মতামত আরও পরিষ্কার করা।
