বাংলাদেশ ব্যাংকে ১২ বছর ভুয়া পরিচয়ে চাকরি: অবশেষে ধরা পড়লেন প্রতারক

কাজী মাশিয়াত, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read
অভিযুক্ত (ভুয়া) মো. আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী
Highlights
  • বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি উচ্চ প্রোফাইল সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভুয়া পরিচয়ে দীর্ঘ ১২ বছর চাকরি করার এক অভূতপূর্ব কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মো. আব্দুল ওয়ারেস আনসারীর নাম, পরিচয় ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্য ব্যবহার করে এক ব্যক্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যুগ্ম পরিচালক পদে পৌঁছেছিলেন। অবশেষে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি তার নিয়োগ বাতিল করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ২২ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (সাধারণ) পদে নিয়োগ পান অনেকেই, যার মধ্যে ছিলেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ মো. আব্দুল ওয়ারেস আনসারীও। কিন্তু তিনি ব্যাংকে যোগ না দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরিতে যোগ দেন। এই সুযোগটি কাজে লাগান বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের তৎকালীন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মিঞা।

তদন্তে জানা যায়, শাহজাহান মিঞা নিজের ভাগনের নাম পাল্টে ‘আব্দুল ওয়ারেস আনসারী’ নাম দিয়ে ব্যাংকে নিয়োগ দেন। ভুয়া পরিচয়ে তার ভাগনে টানা ১২ বছর চাকরি করেন, এমনকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পদোন্নতিও পান—বর্তমানে ছিলেন রাজশাহী আঞ্চলিক অফিসের যুগ্ম পরিচালক পদে।

সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ তদন্তে পুরো বিষয়টি সামনে আসে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শাহজাহান মিঞাকে বরখাস্ত করে এবং তার ভাগনের নিয়োগ বাতিল করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন সময় সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,

“১২ বছর পর আমরা বুঝতে পেরেছি যে, একজন ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়ে চাকরি করছেন। আমরা তার নিয়োগ বাতিল করেছি, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।”

প্রতারণার শিকার হওয়া প্রকৃত বিসিএস কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়ারেস আনসারী জানান,

“আমি এ ঘটনার কিছুই জানতাম না। সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পেরে হতবাক হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকে না যোগ দিয়ে আমি প্রশাসন ক্যাডারে যুক্ত হয়েছিলাম। সেই সুযোগটাই কেউ ব্যবহার করেছে।”

এই ঘটনাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের ওপর বড় প্রশ্ন তুলেছে। একটি ভুয়া পরিচয়ে একজন ব্যক্তি কীভাবে এত বছর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেন, সেটা এখন তীব্র তদন্তের দাবি রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ ধরনের আরও কোনো ভুয়া নিয়োগ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনা শুধু একজন প্রতারকের কাহিনি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও সততার দিকেও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। সময় এসেছে, যেখানে ডিজিটাল ভেরিফিকেশন ও নিয়োগ পর্যায়ে কঠোর পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে—না হলে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *