অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত নিঝুম দ্বীপ, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ, ডেস্ক রিপোর্টার

2 Min Read

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে নিঝুম দ্বীপসহ নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ প্রবল বর্ষণ ও দমকা হাওয়ায় রূপ নেয়। এর ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট বেশি পানি প্রবেশ করে দ্বীপের অভ্যন্তরে। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি সহজেই গ্রামাঞ্চলে ঢুকে পড়ে। এতে নিঝুম দ্বীপের অন্তত নয়টি ওয়ার্ডের প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের নামার বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আজমীর হোসেন জানান, সকাল দশটার দিকে হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কয়েক ফুট বেশি পানি ঢুকে পড়ে বাজার এলাকায়। এতে দোকানপাটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পুকুরে থাকা মাছ পানির সঙ্গে ভেসে গেছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্বীপের মোল্লা গ্রাম, বান্ধাখালী, পূর্ব মুন্সী, গুচ্ছগ্রাম ও মদিনাসহ বেশিরভাগ গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। প্রধান সড়ক ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাতিয়ার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ হাসান জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে দ্বীপের বহু মাছের খামার ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ জানাতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

দ্বীপবাসীদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আবহাওয়া এভাবে অব্যাহত থাকলে নিঝুম দ্বীপের আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী জোয়ার ও বৃষ্টির কারণে খাদ্য ও চিকিৎসাসহ জরুরি সেবায় সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *