স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তানের মৃত্যুর পাঁচ দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বাড়িতে ফিরেই স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছান সদ্য কারামুক্ত সাদ্দাম। সেখানে শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদার, শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভসহ স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত করেন। কবরের মাটি ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি এবং নিজেই মোনাজাত পরিচালনা করেন।
মোনাজাতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাদ্দাম বলেন,
আমি এক হতভাগা স্বামী, এক হতভাগা বাবা। আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি। আল্লাহ, তুমি আমার স্ত্রী ও সন্তানকে ক্ষমা করে দাও। যদি আমার স্ত্রী হত্যার শিকার হয়ে থাকে, তাহলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করো।
মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাদ্দাম বলেন, কারাগারে নেওয়ার পর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এতে তার স্ত্রী ভেঙে পড়েন এবং মনে করেন তিনি আর কখনো মুক্তি পাবেন না। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন,
আমি বারবার জামিন চেয়েছি, পাইনি। আমার ছেলেকে কোলে নেওয়ার সুযোগও পাইনি। আজ স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো।
এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং কারাগারে স্বজনদের সাক্ষাতের সময়সীমা ১৫ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন করার দাবি জানান।
কিছুক্ষণ শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানের পর একটি সাদা হাইয়েস গাড়িতে করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন সাদ্দাম।
এর আগে বুধবার দুপুর ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। মানবিক বিবেচনায় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাকে ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন।
জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) এবং নয় মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
