ষাটগম্বুজ মসজিদ এলাকায় পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ সুন্দরবনের দেশীয় ‘গোল ফল’

বিনোদন ডেস্ক

3 Min Read

বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ও হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরীফ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য। ইতিহাস ও ধর্মীয় আবেশের পাশাপাশি এবার এই এলাকায় দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের দেশীয় ফল ‘গোল’।

নাম গোল হলেও দেখতে মোটেও গোল নয় এই ফল। তবে স্বাদে একেবারেই ব্যতিক্রমী। ফলের শক্ত আবরণের ভেতরে থাকা লিচুর মতো নরম শাঁস এখন পর্যটকদের কাছে নতুন ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটক ষাটগম্বুজ মসজিদ ও মাজার এলাকায় ঘুরতে এসে কৌতূহল নিয়ে গোল ফলের শাঁসের স্বাদ নিচ্ছেন। অনেকেই নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের জন্য উপহার হিসেবেও কিনে নিচ্ছেন এই ফল।

জানা গেছে, সুন্দরবন ও উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে জন্মানো ম্যানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদ গোলগাছ থেকেই এই ফল পাওয়া যায়। গোলপাতা গাছে সাধারণত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে ফুল ফোটে এবং কাত্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে ফল ধরে। ফলের বাইরের অংশ শক্ত হলেও ভেতরের শাঁস অত্যন্ত নরম ও সুস্বাদু। অনেকের মতে, এর স্বাদ তাল শাঁসের সঙ্গে তুলনীয়। সামান্য লবণ কিংবা হালকা মিষ্টির ছোঁয়ায় এর স্বাদ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় চার বছর আগে প্রথমবার ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে এক দোকানি গোল ফলের শাঁস বিক্রি শুরু করলে পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। বর্তমানে মসজিদ ও মাজার এলাকার সামনের সড়কে ৩০টিরও বেশি রিকশা-ভ্যানভিত্তিক দোকানে নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে গোল ফলের শাঁস। প্রতিটি ফল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা দামে।

গোল ফলের শাঁস বিক্রেতারা জানান, আগে নদী ও খালের পাড় থেকে বিনামূল্যে এসব ফল সংগ্রহ করা যেত। তবে চাহিদা বাড়ায় এখন জমির মালিকদের কাছ থেকে প্রতি কাঁধি ১৫ থেকে ২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। একটি কাঁধিতে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি ফল পাওয়া যায়। এসব ফল বিক্রি করে স্থানীয় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা ভালো আয় করছেন।

পর্যটকদের অনেকেই জানান, জীবনে প্রথমবার গোল ফলের শাঁস খেয়ে তারা মুগ্ধ। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও ছবি পোস্ট করছেন, যার ফলে এই ফলের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, গোল ফলের শাঁস জনপ্রিয় হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, উৎপাদকদের চাহিদা বেড়েছে এবং পর্যটন এলাকায় অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী বলেন,

গোল ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ ও সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হজমশক্তি উন্নত করতে ও পানিশূন্যতা কমাতে সহায়ক।

তিনি আরও বলেন,

গোল ফল ত্বকের কিছু সমস্যায় উপকারি ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান আরও গবেষণা করছে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি এখন ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরীফে আসা পর্যটকদের কাছে গোল ফলের শাঁস হয়ে উঠেছে এক নতুন পরিচয় ও আকর্ষণ।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *