ব্রিটেনে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পথে বাংলাদেশ: ইউনূসের নেতৃত্বে সক্রিয় কূটনীতি

কাজী মাশিয়াত, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

সদ্যসমাপ্ত চার দিনের যুক্তরাজ্য সফরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক কূটনৈতিক মিশনে যুক্ত হন—যার মূল লক্ষ্য ছিল অর্থপাচারের উৎস খোঁজা, বিচারিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, ব্রিটিশ সরকার এই প্রচেষ্টায় “অত্যন্ত সহায়ক” ভূমিকা পালন করছে। তিনি ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন,

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ যে গতিতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির অনুসন্ধানে কাজ করা আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ সমন্বয় কেন্দ্র (ISCCC) এখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করার সুযোগ অনুসন্ধান করছে। লক্ষ্য, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া কথিত দুর্নীতির অনুসন্ধান ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, সাবেক সরকারের মেয়াদে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৭৪ বিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড) বিদেশে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার বৃহৎ অংশই যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ, ভোগব্যয় কিংবা সম্পদে রূপান্তরিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

লন্ডনে অধ্যাপক ইউনূসের সফরের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন সংস্থা NCA (National Crime Agency)-কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। যদিও এনসিএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা চলমান বা সম্ভাব্য তদন্ত সম্পর্কিত কোনো মন্তব্য করি না।” তবে এই সংস্থার আগ্রহ এবং ISCCC-এর আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝায়।

এছাড়া, অধ্যাপক ইউনূস বাকিংহাম প্যালেসে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সচিব জনাথন রেনল্ডসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। রেনল্ডস এক টুইটে জানিয়েছেন, তাঁরা পারস্পরিক বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

তবে এই সফরের একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে। অধ্যাপক ইউনূস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। এই প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, “আমি জানি না আমার হতাশ হওয়া উচিত, নাকি দুঃখিত হওয়া উচিত। এটি একটি হারানো সুযোগ।” স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়া সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা না পেলেও ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সূক্ষ্মতাই হয়তো এর পেছনে রয়েছে—বিশেষ করে স্টারমার ও লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিবেচনায়।

আজ শনিবার (১৪ জুন) সকালে ঢাকা ফিরে এসেছেন অধ্যাপক ইউনূস। তাঁর সফর ছিল দৃঢ় বার্তা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতীক—পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং লন্ডন-ঢাকা সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করার একটি বাস্তব প্রচেষ্টা।

 

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *