প্রস্তুত পাইপলাইন, তেল পরিবহনে নতুন যুগে বাংলাদেশ

মাইশা তাসনিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবহনে এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অঞ্চলে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা চালু হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে বড় পরিবর্তন আনবে।

২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে মাত্র ১২ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৫০ লাখ লিটার তেল পৌঁছানো সম্ভব হবে। আগে শতাধিক কোস্টাল শিপে এই তেল পরিবহনে সময় লাগত অন্তত দেড় দিন। ফলে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

প্রথমে রিফাইন ডিজেল সরবরাহ করা হবে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের ৯টি ট্যাংকে। সেখান থেকে পাম্পিংয়ের মাধ্যমে কুমিল্লা হয়ে ঢাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত ২৪২ কিলোমিটার ১৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের পাইপ এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত আরও ৮ কিলোমিটার ১০ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের পাইপ বসানো হয়েছে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, তত্ত্বাবধানে ছিল পদ্মা অয়েল কোম্পানি। প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে পতেঙ্গার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই পুরো পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও সরবরাহ কার্যক্রম মনিটর করা যাবে।

পরীক্ষামূলকভাবে ইতিমধ্যেই ৩ কোটি লিটার তেল সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প থেকে বছরে আয় হবে প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৯০ কোটি টাকা খরচ বাদ দিয়েও ২৩৪ কোটি টাকার বেশি লাভ থাকবে।

দেশের মোট জ্বালানি তেলের ৩০ শতাংশ ব্যবহার হয় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায়। প্রথম পর্যায়ে বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাঘাবাড়ি-আশুগঞ্জ ও ভৈরব পর্যন্ত সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২১ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে।

এ প্রকল্প শুধু সময় ও অর্থ সাশ্রয়ই করবে না, বরং দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এক বিপ্লব ঘটাবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *