চট্টগ্রামের সাবেক শিক্ষা সচিব সাময়িক বরখাস্ত

মাইশা তাসনিম, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে ছেলের পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার এবং সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একজন উচ্চপদস্থ শিক্ষাপ্রশাসকের এই ধরনের অপকর্ম শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার ওপর বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে অংশগ্রহণ করেন। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পাসের জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর না পেয়েও ফলাফলে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে মৌখিকভাবে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) তদন্তে নামে এবং ফলাফল জালিয়াতির প্রমাণ পায়। তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ফলাফল পরিবর্তনের পেছনে সচিব হিসেবে নারায়ণ চন্দ্র নাথের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

গত ১৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন নারায়ণ চন্দ্র নাথ। শুনানির পর আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় ৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৩৯ ধারায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি সরকার নির্ধারিত ভাতা পাবেন। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক বরখাস্তের চিঠি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পৌঁছায়নি, তবে বোর্ড সচিব জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি অবগত।

নারায়ণ চন্দ্র নাথ দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও পরে সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তার প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশংসা থাকলেও শেষ সময়ে এসে এই জালিয়াতির ঘটনা তার পুরো কর্মজীবনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এটি শুধু একজন সচিবের জালিয়াতি নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে থাকা দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ। একজন সচিব যদি নিজের সন্তানের পাস করানোর জন্য নিয়ম ভাঙেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে?”

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক এবং আইনগত উভয় পর্যায়ে তদন্ত চলবে। প্রয়োজনে আরো কর্মকর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে।

এ ঘটনা সরকারের “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স” নীতিকে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত করা হচ্ছে, তা যাচাইয়ের বড় একটি পরীক্ষা হিসেবেও দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নারায়ণ চন্দ্র নাথের মতো একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন জঘন্য কাজ শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থায় চিড় ধরায়। দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *