ফেনীতে প্রধান শিক্ষকের যৌন হয়রানি: সাময়িক বরখাস্ত

মাহমুদুল আলম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দক্ষিণ নেয়াজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দিন চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন।

এর আগে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রকে কৌশলে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ঘটনাটি ঘটে প্রধান শিক্ষকের মহিপাল চাড়িপুর এলাকার নিজ বাসায়, যেখানে এক ভাড়াটিয়া পরিবারের ছেলেকে ডেকে নিয়ে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার পর থেকেই এলাকাবাসী এবং দক্ষিণ নেয়াজপুর মকবুল আহামদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। একই সঙ্গে একাধিক অভিভাবক দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে—ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন এবং মামলা দায়েরের পর আত্মগোপনে চলে যান। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি ও আর্থিক অনিয়মসহ তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক অভিযোগ ছিল।

বিভিন্ন সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তিনি আচরণ সংশোধন করেননি। এমনকি ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে কয়েকবার বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয় ও মারধরও করে।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন,

নৈতিকতার জায়গা থেকে তিনি আর বিদ্যালয়ে থাকার যোগ্য নন। তার কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন জানান,

ঘটনার পর অভিভাবকরা প্রতিনিয়ত এসে খবর নিচ্ছেন। তিনি বিদ্যালয়ে আসলে অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঈন উদ্দিন চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠান।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, এ ধরনের অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে বিদ্যালয়কে নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হোক। তাদের অভিযোগ—দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগের পাহাড় গড়ে উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার সুযোগেই প্রধান শিক্ষক বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন। এবার তারা চাইছেন, তদন্ত ও বিচার যেন আর বিলম্বিত না হয় এবং বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ যেন আর কোনো ব্যক্তির অনৈতিক আচরণের কাছে জিম্মি না থাকে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *