সরকার ঘোষিত ভোলা-বরিশাল সেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ভোলায় সফররত তিন উপদেষ্টা বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দিনব্যাপী সফর শেষে বিকেলে ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সেতু, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। ভোলা-বরিশাল সেতুসহ পাঁচ দফা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন স্থানীয়রা।
সভায় স্থানীয়রা সেতু নির্মাণের সুনির্দিষ্ট সময় জানতে চাইলে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, আগের ডিজাইনে সেতু নির্মাণ সম্ভব নয়, তাই নতুন ডিজাইন তৈরি হচ্ছে। তিনি জানান,
নতুন ডিজাইনের কাজ আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে, এরপরই কাজ শুরু হবে।
তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য দিতে পারেননি।
এ বক্তব্যের পর সভাস্থল থেকে বের হওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তিন উপদেষ্টাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকে। নিচে নেমে গাড়িতে ওঠার মুহূর্তে দুই যুবক উপদেষ্টাদের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে এবং উপস্থিতরা পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মূল ফটকও কিছু সময় অবরোধ করা হয়।
এক পর্যায়ে বিক্ষোভের মধ্যেই জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তরিকুল ইসলাম কায়েদ বলেন,
উপদেষ্টা আগে বলেছিলেন ডিসেম্বরেই দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে। আজ জানালেন ছয় মাস পরে শুরু হবে। তিনি কথা রাখেননি, তাই আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।
প্রায় ২০ মিনিট অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে উপদেষ্টারা সেখান থেকে নিরাপদে বের হয়ে জেলা সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু শাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, গ্যাস ও সেতুর দাবিতে কয়েকজন গাড়ির সামনে শুয়ে বিক্ষোভ করেন, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
