চাকসু, হল ও হোস্টেল সংসদের প্রতিনিধিদের শপথ: চবিতে নতুন নেতৃত্বের অভিষেক

মাহমুদুল আলম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

4 Min Read

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর ২০২৫) অনুষ্ঠিত হলো কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ পাঠ করান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর ড. মনির উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি হল সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ পড়ান তাঁদের স্ব স্ব হলের প্রভোস্টবৃন্দ। এছাড়াও শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ওয়ার্ডেন সুব্রত দাশ হোস্টেল সংসদের প্রতিনিধিদের শপথ করান। শুরুতে ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

শপথগ্রহণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন,

আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আমরা সফলভাবে চাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পেরেছি। এ নির্বাচনের সফলতা শিক্ষার্থীদের, কারণ তারা গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখেছে।

তিনি আরও বলেন,

গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছি। মেগা সমাবর্তনের পর চাকসু নির্বাচন তারই ধারাবাহিকতা।

তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রশাসনের মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর শামীম উদ্দিন খান নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁদের সকল দাবি যেন যৌক্তিক, নৈতিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির সহায়ক হয়, সেটিই প্রত্যাশা। অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর মনির উদ্দিন বলেন, চাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙেছে এবং আশা করা যায়, এ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় আরও উদার ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে এগিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. কামাল উদ্দিন বলেন,

আজ আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রশাসনের অঙ্গীকার বাস্তব। প্রায় ৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনের জন্যও এক নতুন দিগন্ত।

তিনি বলেন,

আজকের শপথ হোক ‘চাকসু টু বাংলাদেশ বিনির্মাণ’-এর অঙ্গীকারে। আজকের তরুণ নেতৃত্ব আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চাকসু ভিপি ও জিএসসহ প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ, যাঁরা অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, চাকসু কেবল ক্যাম্পাস রাজনীতির অঙ্গন নয়, এখান থেকেই জাতীয় নেতৃত্বের ভিত্তি তৈরি হয়। আবাসন সংকট, গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বানও জানান তাঁরা।

এদিন নবনির্বাচিত ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব এবং এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। ভিপি রনি বলেন,

শিক্ষার্থীরাই আমাদের আয়না। ভুল হলে সংশোধন করবেন, সমালোচনা করবেন—আমরা তা থেকে শিখব।

জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন,

আমাদের বিজয় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিজয়, কিন্তু এটি কেবল সূচনা। প্রকৃত বিজয় হবে যখন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূর্ণ হবে।

এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,

চাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চেতনা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, এখন প্রয়োজন এই ধারা অব্যাহত রাখা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর এবং ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক তাহমিদা খানম। এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট, ওয়ার্ডেন, প্রক্টর, রিটার্নিং অফিসারসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নির্বাচনের এই শপথগ্রহণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য পুনর্জাগরণের এক নতুন সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হলো।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *