মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে সরাসরি সম্প্রচার

মাইশা তাসনিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read
Highlights

 একসময়কার তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আজ রোববার (১লা জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের নির্দেশদাতা হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় নির্বিচারে অন্তত ১,৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকাজ বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সম্প্রচার শুরু হয়, যা দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে। এই তিনজনের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যার নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি এবং নিষ্ঠুর আচরণের পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

 

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা এবং ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ১২ মে মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার পর এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন,

এই বিচার এমনভাবে সম্পন্ন হবে যেন কেউ এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না তোলে। ডিসেম্বরের মধ্যে এ মামলার রায় দৃশ্যমান হবে।”

 

এই মামলার প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তারা এ অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে।

দেশের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা—যেখানে একজন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচার শুধু রাজনীতিক নয়, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *