আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৭৫ সালের আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে হত্যাকারীরা করেছিল একটি নির্লজ্জ কাণ্ড, যেখানে যুক্ত ছিল ২৬ জনের মৃত্যুর মহাকবিতা।
সেদিন রাতের নৃশংস হামলার সময় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামালসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। ভাগ্যক্রমে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি; তার নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মুক্ত হয় দেশের ভূমি। তার আদর্শ ও সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাঙালি জাতি আজও তাকে স্মরণ করে। হত্যাকাণ্ডের পর যে ভয়াবহ দুঃসমযা শুরু হয়, তা বাংলাদেশ সরকার, রাজনৈতিক অবস্থা এবং জনগণের মনে গভীর দাগ কাটে।
১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বছর, অন্তর্বর্তী সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী, ১০ মে আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। তবে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোক জানানো হয়েছে।
প্রতিবছর, আওয়ামী লীগ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে; টুঙ্গিপাড়ার সমাধিসৌধে ও বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের নিহতদের কবরে ফুল দেওয়ার মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়। এ ছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদ ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং তিনি বাংলাদেশের একজন ইতিহাসের মহানায়ক। তার নাম আজও বাঙালির হৃদয়ে অমলিন, এবং তার নেতৃত্বের স্মৃতি জাতিকে পথ দেখায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি মানবতার জন্য একটি শিক্ষার বার্তা। বঙ্গবন্ধুর অবদান আজও জীবন্ত, এবং বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জনে তার ভূমিকা অপরিসীম।
