আজ সৌদি আরবে– ৯ জিলহজ, ১৪৪৬ হিজরি।বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মুসলিম হাজির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হজের রোকনে—‘উকুফে আরাফাহ’ পালনে আরাফার ময়দানে অবস্থান করছেন। এই পবিত্র দিনে মসজিদে নামিরাহ থেকে ঐতিহাসিক হজের খুতবা প্রদান করছেন মসজিদুল হারামের খতিব ও ইমাম, শায়খ ড. সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল হুমাইদ।
সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদ বিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী ওয়েব পোর্টাল হারামাইন শরিফাইন নিশ্চিত করেছে—শায়খ সালেহ এই মহৎ দায়িত্ব পালন করছেন আজকের হজের খুতবায়। ইসলামী বিশ্বের কোটি মুসলিম শ্রদ্ধা আর মনোযোগ নিয়ে শুনছেন এই গুরুত্বপূর্ণ বয়ান, যা তাদের জন্য আধ্যাত্মিক নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার উৎস।
শায়খ ড. সালেহ ১৯৫০ সালে সৌদি আরবের বুরাইদা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৭৬ সালে মাস্টার্স এবং ১৯৮২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের শিক্ষক ছিলেন এবং পরে ইসলামী অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মাত্র ৩৩ বছর বয়সে, ১৯৮৩ সালে, তাঁকে মসজিদুল হারামের ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিল ও হাই জুডিশিয়ারি কমিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, সিনিয়র ওলামা কাউন্সিলের সদস্য এবং রয়্যাল কোর্টের উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত।
হজের অন্যতম ফরজ হলো ‘উকুফে আরাফাহ’। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল-হাজ্জু আরাফাহ”, অর্থাৎ ‘আরাফায় অবস্থান করাই হজ’। আজকের দিনে (৯ জিলহজ) জোহর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ওয়াজিব। কেউ সূর্যাস্তের আগে আরাফার সীমানা ছাড়লে আবার ফিরে আসা আবশ্যক, না হলে দম দিতে হবে। কারো যদি ওই সময়ের মধ্যে আরাফায় উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হয়, তবে রাতের মধ্যে সুবহে সাদিকের আগে কিছু সময়ের জন্য হলেও সেখানে উপস্থিত হতে হবে—এটি হজের জন্য অপরিহার্য। অন্যথায় হজ বাতিল হয়ে যাবে।
সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে হজের খুতবা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদসহ সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে থাকা মুসলিমরা এই পবিত্র বার্তা গ্রহণ করছেন।
