সম্প্রতি রাশিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন,
“এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”
এই বার্তা দিয়েছেন তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ৭৫ মিনিটব্যাপী ফোনালাপের সময়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার সকালে (স্থানীয় সময় অনুযায়ী), পুতিন এবং ট্রাম্পের মধ্যে এই দীর্ঘ ফোনালাপে আলোচনা হয়েছে যুদ্ধ, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা ঘিরে। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোস্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন,
“আলোচনাটি ভালো ছিল, তবে শান্তি আনার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি।”
এটি এমন এক সময়, যখন ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানছে এবং সংঘাত আরও গভীর হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ড্রোন হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের আগে থেকে কোনো পূর্বাভাস ছিল না।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেছেন,
“পুতিন এই হামলার বিষয়ে ট্রাম্পকে জোর দিয়ে বলেছেন। দুই নেতার মধ্যে আলোচনাটি ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এই হামলার গুরুত্ব বুঝতে পারা ট্রাম্পের জন্য প্রয়োজন ছিল, কারণ এটি আমাদের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয়েছে।”
এই ফোনালাপের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “অনেকে রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন, কিন্তু কোনও আলোচনাই যুদ্ধ থামাতে পারেনি। পুতিন মনে করছেন তিনি দায়মুক্ত—এটি অত্যন্ত ভয়ানক।”
জেলেনস্কি আরও বলেন,
“রাশিয়ার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টা আন্দ্রি ইয়ারমাক বলেন,
“রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা একেবারেই নেই। বরং তারা আরও দীর্ঘায়িত সংঘাত চায়।”
বর্তমানে পুতিন-ট্রাম্প আলোচনা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের তীব্রতায় আন্তর্জাতিক কূটনীতির উত্তাপ আরও বাড়ছে। শান্তি আলোচনা এখনও দৃশ্যপটে নেই, বরং পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
