গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা-তে ইসরাইলি হামলার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছে। ত্রাণ বহরে ইসরাইলি সেনাদের জোরপূর্বক প্রবেশ ও সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে গাজাগামী বহরে বাধা দিয়ে একের পর এক জাহাজ থামিয়ে দেয় ইসরাইলি নৌবাহিনী। অন্তত ১৩টি জাহাজ আটক করা হয় এবং সেখানে থাকা দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবককে তুলে নেয়া হয় একটি বন্দরে। আটক হওয়া মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন। আটককৃতদের সেখানেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বন্দরে স্থানান্তর করা হয়।
এই অভিযানে বিশ্বের নানা দেশের প্রতিনিধি, আইনপ্রণেতা ও মানবাধিকার কর্মী অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক মিশনে যুক্ত হন আলোকচিত্রী, শিল্পী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম। তিনি সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে হামলার মুহূর্তের খবর জানান।
ঘটনার পরপরই ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপকে “আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন” এবং আটককৃতদের “অপহরণ” হিসেবে আখ্যা দেয়। তুরস্ক ঘটনাটিকে সরাসরি “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” বলেছে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের রাজনৈতিক নেতারাও একে নিন্দা জানিয়েছেন।
ইতালি, স্পেন, জার্মানি, তুরস্ক ও গ্রিসসহ বহু দেশে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও কলম্বিয়ায়ও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। রোমে রাতেই হাজারো মানুষ প্রতিবাদ মিছিল করে এবং দেশটির সবচেয়ে বড় শ্রমিক ইউনিয়ন শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
৪৫টিরও বেশি নৌযান ও প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে গঠিত এ ফ্লোটিলা গাজার নিরীহ মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইলি বাধায় মানবিক এই মিশন থমকে গেলেও বিশ্বব্যাপী সংহতি ও প্রতিবাদ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।
