বাংলাদেশে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সতর্ক করে বলেন—যেসব দেশ গণতন্ত্রে ফিরতে দেরি করেছে, তারা রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের জন্য সেই পথ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি মন্তব্য করেন, ১৪ মাস পার হলেও নির্বাচনের রূপরেখা পরিষ্কার হয়নি, ফলে দেশ আবারও প্রতিনিধিত্বশূন্য অবস্থার মধ্যে রয়েছে। জনগণ এখন নির্বাচিত সরকার ও জবাবদিহিতামূলক সংসদ চায়। এ জন্য যতটুকু সংস্কার নিয়ে ইতোমধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, তার ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে “চ্যাপ্টার ক্লোজ” করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করেন। তার আশঙ্কা—এ ব্যবস্থা চালু হলে সংসদে এমপি বেচাকেনা বেড়ে যাবে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন সম্ভব হবে এবং এর ফলে নতুন করে জাতিগত বিভাজন ও ধর্মীয় দাঙ্গার ঝুঁকি তৈরি হবে। তার মতে, নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোনোভাবেই কার্যকর নয়; তবে উচ্চকক্ষে এ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পিআর পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। সংস্কার ইস্যুতে সিদ্ধান্তহীনতা সরকার ও কমিশনের দায় এড়ানোর কৌশল বলেও দাবি করেন তিনি। রাশেদ খানের মতে, ভিন্নমতকে ঐকমত্যে রূপ দেওয়া সরকারের দায়িত্ব, আর সবার বক্তব্য শোনার পর একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
