দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ঢাকা–৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম এবং তার পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৪৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রোববার ফরহাদ হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আবেদনে বলা হয়, ফরহাদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১ কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার ২৫ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন। তার নিজ নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৬ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭১ টাকা জমা হয় এবং ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৬ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। অন্য মামলায় তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকলেও জামিনে মুক্তি পেলে আত্মগোপন বা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে ফরহাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
একই আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক সংসদ সদস্য আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম এবং তার পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৪৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. হোসাইন শরীফ ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন। এসব হিসাবে বর্তমানে ৩৩ কোটি ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৫ টাকা জমা রয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজে ও পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছেন।
দুদক আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, এসব ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তদন্তের স্বার্থে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা জরুরি।
