অনৈক্য রেখে সংবিধানে হাত না দিতে ৫৩ নাগরিকের আহ্বান

মাইশা তাসনিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

দেশের ৫৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করেছেন, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া সংবিধান সংস্কারের চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে দেশকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলতে পারে। তারা বলেছেন, সংবিধান রাষ্ট্রের ঐক্য ও সম্মিলনের প্রতীক—তাই এর মর্যাদা রক্ষায় সর্বস্তরের ঐকমত্য নিশ্চিত করা জরুরি।

বিবৃতিতে নাগরিকরা বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আপত্তি বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ মীমাংসা না করেই সংবিধান সংস্কারের পথে এগোনো অনৈক্যকে আরও তীব্র করবে। এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (এনসিসি) জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দিলেও, বিভিন্ন দল অভিযোগ করেছে—তাদের আপত্তির বিষয়গুলো খসড়া তফসিল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ সনদে সইও করেনি। এই অবস্থায় ৫৩ নাগরিক বলেন, সংবিধান সংস্কারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তড়িঘড়ি না করে মতৈক্য না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ঐক্য ভেঙে গেলে ‘ফ্যাসিস্ট’ শক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দিতে পারে, যার ফলে গণভোট বা জাতীয় নির্বাচন আয়োজনও ব্যর্থ হতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অন্যান্য দেশে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের আগে বছরের পর বছর ধরে আলোচনা চলে। সেই উদাহরণে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঐকমত্য কমিশনের নির্ধারিত ২৭০ দিনের (৯ মাস) সময়সীমা বাড়িয়ে অন্তত দুই বছর করার প্রস্তাব রাখেন তারা।

একই সঙ্গে তারা মনে করেন, নির্বাচনের পর সংসদের ভেতরে ও বাইরে আপত্তি ও মতভেদের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা জরুরি। তারা আরও প্রস্তাব দেন, ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ বাড়িয়ে লেখক, চিন্তক, অধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্বদের যুক্ত করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক বিভাজন কমে আসে।

বিবৃতিদাতা ৫৩ জনের মধ্যে রয়েছেন—
কবি কাজল শাহনেওয়াজ, শিক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান, অধ্যাপক আর রাজী (চবি), অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার (রাবি), অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মনসুর তমাল (জাবি), আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ, লেখক ও সম্পাদক রাখাল রাহা, কথাসাহিত্যিক সালাহ উদ্দিন শুভ্র, মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন, সংগীতশিল্পী অমল আকাশ, এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেশকাত চৌধুরী।

তাদের বক্তব্যে একটিই বার্তা স্পষ্ট—সংবিধান সংস্কার হোক, কিন্তু তা হোক জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে; নয়তো এই অনৈক্য দেশের ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *