আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২০ অনুচ্ছেদ সংশোধন বিষয়ে বিএনপিকে সুবিধা দেয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে আইন উপদেষ্টার কাছে লিখিত চিঠি পাঠিয়েছে।
চিঠিতে এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনী আইন সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো একক রাজনৈতিক দলকে ব্যক্তিগত আশ্বাস দেয়া একজন উপদেষ্টার নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক নীতির পরিপন্থি এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাকে দুর্বল করতে পারে।
দলটির দাবি, আইন সংশোধনের মতো প্রক্রিয়া এককভাবে নয়, বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পরামর্শনির্ভর প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। কোনো নির্দিষ্ট দলের দাবির সঙ্গে একমত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়া সরকারের নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আইন উপদেষ্টা নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন—যা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থি।
এনসিপি তিনটি যুক্তি দিয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে:
প্রথমত, নিবন্ধিত দল অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করলে তা রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার পরিপন্থি হয়। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ত, ভোটার-দায়বদ্ধতার নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভোটার জানেন না তিনি আসলে কোন দলের প্রতিনিধিকে ভোট দিচ্ছেন—ফলে ভোটের অর্থ ও জবাবদিহিতা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।
তৃতীয়ত, বড় দলগুলো ছোট ‘প্রক্সি দল’ তৈরি করে তাদের প্রতীকে নির্বাচন করায়—যা কৃত্রিম বহুদলীয়তা সৃষ্টি করে। এর ফলে সংসদে প্রকৃত মতভিন্নতার বদলে কৃত্রিম ঐকমত্য তৈরি হয়।
এনসিপি মনে করে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২০ অনুচ্ছেদে সংশোধন এনে স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন—কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অন্য কোনো দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে না। যদি জোটগত প্রার্থিতা প্রয়োজন হয়, তবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি নতুন নিবন্ধিত সত্তা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিকট নিবন্ধন করতে হবে।
দলটির মতে, এমন পদক্ষেপ রাজনৈতিক বহুত্ববাদকে সীমিত করবে না; বরং প্রকৃত গণতান্ত্রিক কাঠামো ও ভোটারের অধিকারকে আরও শক্তিশালী করবে।
সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য এনসিপি আইন উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে।
