ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বরিশাল অঞ্চলের পায়রা ও তেঁতুলিয়া নদীর ধুলিয়া এলাকায় চালানো হয়েছে দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে ২৪ জন জেলেকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে নদীর পাড়ে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
অভিযানে আটক ২৪ জেলের মধ্যে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, ১১ জনকে অর্থদণ্ড এবং পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সতর্ক করে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, ইলিশের প্রজননকালীন ২২ দিন—৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত—দেশের সব নদীতে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় যাতে কোনো অসাধু জেলে মাছ ধরতে না পারে, সে জন্য মাঠ পর্যায়ে দিনরাত অভিযান চলছে।
একজন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান,
আমাদের লক্ষ্য শুধু আইন প্রয়োগ নয়, ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা। এই ২২ দিন নদীকে ইলিশের জন্য নিরাপদ রাখতে আমরা সর্বাত্মকভাবে কাজ করছি।
সরকারি সহায়তা হিসেবে নিবন্ধিত জেলেরা পাচ্ছেন প্রতিজন ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল। জেলা মৎস্য দপ্তর জানিয়েছে, প্রায় ৬৭ হাজার জেলে এই সহায়তার আওতায় থাকবেন।
অভিযান শেষে কর্মকর্তারা জানান, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ—এটি শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক। মা ইলিশ সংরক্ষণে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণই এই সম্পদ রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মা ইলিশ রক্ষায় আইন প্রয়োগ, মানবিক সহায়তা ও সচেতনতার সমন্বয়ই এখন সময়ের দাবি।
