রাজধানী ঢাকা ও আশপাশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। সরকারি হাসপাতালগুলোর হিসাব অনুযায়ী শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাত পর্যন্ত অন্তত ৬০৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বহুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেসরকারি হাসপাতালের রোগীদের তথ্য যুক্ত হলে আহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পুরান ঢাকার কসাইটুলিতে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে নিহত হন তিন পথচারী—রাফিউল ইসলাম (২০), আব্দুর রহিম (৪৮) এবং তার ছেলে মেহরাব হোসেন (১২)। রাফিউল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। আব্দুর রহিম লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রকোনার বাসিন্দা হলেও ঢাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারসহ থাকতেন।
এছাড়া মুগদার মদিনাবাগে নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যান নিরাপত্তাকর্মী মাকসুদ (৫০)।
রূপগঞ্জের ইসলামবাগ এলাকায় দেয়াল ধসে প্রাণ হারায় ১০ মাসের শিশু ফাতেমা। গুরুতর আহত শিশুটির মা ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের জেলাটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। চিনিশপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে বসতবাড়ির সানশেড ভেঙে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় শিশু ওমর (৮) ও তার পরিবার। পরে ঢাকায় নেওয়ার পর মারা যায় ওমর ও তার বাবা দেলোয়ার হোসেন।
পলাশ উপজেলায় মাটির ঘর ধসে চাপা পড়ে মারা যান কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫)। শিবপুরে গাছ থেকে পড়ে আহত হওয়া ফোরকান মিয়া (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে ডাঙ্গা ইউনিয়নে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে স্ট্রোক করে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে নাসিরউদ্দিন (৬৫) নামের এক প্রবীণের।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭, যা সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে দেশের ভেতরে উৎপত্তি হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উৎপত্তিস্থল ভূ-পৃষ্ঠের খুব কাছে হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়তে পারে। নরসিংদীতে শতাধিক ভবনে এবং ঢাকায় অন্তত ১৪টি ভবনে ফাটল দেখা গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
ভূমিকম্প গবেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের মাঝারি মাত্রার কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের সম্ভাবনার আগাম ইঙ্গিত হতে পারে। নিরাপদ নির্মাণকাঠামো নিশ্চিত করা ও জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দেশজুড়ে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে বিভিন্ন এলাকা।
