ভুল চিকিৎসায় মিনিস্টার–মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. সামসুদ্দোহা শিমুলের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
ভুক্তভোগীর স্ত্রীর করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত ও মো. শাহেদ খান ইয়াকুব। রিটে ‘মিনিস্টার–মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকের মৃত্যু: ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মামলা’ শীর্ষক সংবাদ প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ আগস্ট নাকের হাড় বেড়ে যাওয়া–সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক ছোট অস্ত্রোপচারের জন্য ঢাকার কলাবাগানের কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোম হাসপাতালে ভর্তি হন মো. সামসুদ্দোহা শিমুল। চিকিৎসক জাহীর আল আমিনের তত্ত্বাবধানে রাত সোয়া ১১টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। তবে রাত সোয়া ১টার দিকে পরিবারকে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের সময়ই তার মৃত্যু হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের আগে সামসুদ্দোহার কোনো গুরুতর শারীরিক জটিলতা ছিল না। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করতেন এবং অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগ পর্যন্ত সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন।
এ ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে দুই চিকিৎসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন—চিকিৎসক জাহীর আল আমিন, ইফতেখারুল কাওছার, কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোম হাসপাতালের চেয়ারম্যান কবির আহামেদ ভুঁইয়া এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিয়া ইসলাম।
সামসুদ্দোহা শিমুলের স্ত্রী সায়মা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন,
একটি ছোট অস্ত্রোপচারের নামে আমার স্বামীকে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ ছিলেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
হাইকোর্টের জারি করা রুলে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে—ভুল চিকিৎসার দায়ে নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কেন ২০ কোটি টাকা দেওয়া হবে না।
