প্রাথমিক শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা

ফরহাদ হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধি

2 Min Read

দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় অবশেষে আগামীকাল রবিবার (৯ নভেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শিক্ষক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত মোর্চা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এ সিদ্ধান্ত জানায়।

এর আগে সকাল থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো শিক্ষক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসান চেয়ে তারা সরাসরি দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদানের দাবি জানান।

বিকেলে শিক্ষকরা শাহবাগ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, পুলিশ জলকামান ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটায়।

শিক্ষকদের নেতৃত্ব দেওয়া পরিষদে চারটি সংগঠন যুক্ত রয়েছে—বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ। আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকরা।

শিক্ষক নেতারা জানান, বছরের পর বছর ধরে ১১তম গ্রেডের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে তারা এবার সরাসরি দশম গ্রেডের দাবিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের যুক্তি,

পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, এমনকি প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও দশম গ্রেডে বেতন পান, অথচ আমরা সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও বঞ্চিত।

পরিষদের তিন দফা দাবি

১. দশম গ্রেড প্রদান: সহকারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দশম গ্রেডে উন্নীত করা।
২. উচ্চতর গ্রেডের স্থায়ী সমাধান: চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদানে জটিলতা নিরসন।
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি: সকল সহকারী শিক্ষকের জন্য পদোন্নতির নিশ্চয়তা প্রদান।

শিক্ষকরা বলেন, তাদের দাবি কেবল বেতনের নয়—এটি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষক মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন। তারা ঘোষণা দেন,

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা শহীদ মিনার চত্বর ছাড়ব না।

দেশজুড়ে এই কর্মবিরতি শুরু হলে প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে লাখো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে।

শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি—দাবি না মানা পর্যন্ত কলম ধরব না।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *