ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, সমাজের পূর্ণ সমর্থন ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর সফরকালে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশ নেন আইজিপি। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক পরিসরে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপি বলেন, মামলার জট ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা উৎসাহ পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আসামি গ্রেফতারের পর থানাঘেরাওয়ের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের পর বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাজার ও বিভিন্ন তরিকার ওপর আক্রমণের ফলে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
বিগত ১৫ বছরে পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করার সমালোচনা করে বাহারুল আলম বলেন, আগের সময়ে পুলিশ অনেক গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বাহিনীর মনোবল ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
আইজিপি জানান, রংপুর বিভাগের পুলিশ সদস্যরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, পুলিশের ওপর সমাজের পূর্ণ আস্থা ছাড়া নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব নয়। এ সময় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
