শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি। বহু বছরের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার তারা সরাসরি দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন।
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শিক্ষকরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিচ্ছেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’, যেখানে চারটি শিক্ষক সংগঠন একত্রিত হয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সম্প্রতি তৃতীয় ধাপে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বহুদিন ধরে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবার তারা সরাসরি দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান দাবি করছেন।
তাদের অভিযোগ, দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাব-ইন্সপেক্টর, নার্স কিংবা কৃষি কর্মকর্তারা দশম গ্রেডে সুবিধা পেলেও প্রাথমিক শিক্ষকেরা সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তিনটি মূল দাবি জানানো হয়েছে:
১️⃣ দশম গ্রেড প্রদান: সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা দশম গ্রেডে নির্ধারণ।
২️⃣ উচ্চতর গ্রেড সমস্যা সমাধান: ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের জটিলতা দূরীকরণ।
৩️⃣ শতভাগ পদোন্নতির নিশ্চয়তা: সহকারী শিক্ষকদের জন্য বিভাগীয় পদোন্নতিতে পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা।
এটা শুধু বেতন নয়, মর্যাদার প্রশ্ন
অবস্থানরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এই আন্দোলন কেবল অর্থনৈতিক নয়—এটি পেশাগত মর্যাদা, প্রেরণা এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তারা বলেন,
যে শিক্ষক জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে, সে নিজেই আজ অবহেলিত। আমরা ন্যায্য প্রাপ্য না পেলে শহীদ মিনার ছেড়ে যাব না।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে। শহীদ মিনার চত্বরজুড়ে এখন শিক্ষকদের গণসমাবেশ যেন একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে—সম্মান ও ন্যায্যতার লড়াইয়ের প্রতীক।
