সিরাজগঞ্জে জাতীয়তাবাদী সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক দলের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

3 Min Read

সিরাজগঞ্জে জাতীয়তাবাদী সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা, যা নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক-নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের একটি হলরুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক, মালিক ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোঃ শামসুল আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা ড্যাবের সভাপতি ডাঃ এম এ লতিফ এবং প্রধান বক্তা হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মোঃ আসলাম উদ্দিন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাস, তরুণ দল ও মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, শ্রমিক সমাজ বিএনপির শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও ন্যায্য দাবি আদায়ে একটি শক্তিশালী, সৎ ও ত্যাগী নেতৃত্বের কমিটি গঠন জরুরি। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ও তার সহযোগীরা শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, যার ফলে শ্রমিকরা চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও গণপরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা শ্রমিকদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

বক্তারা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্রুত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দাবি করেন, যাতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠন সম্ভব হয়। এই সরকারই শ্রমিকদের ন্যায্য হিস্যা বাস্তবায়ন করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথি ডাঃ এম এ লতিফ বলেন, শ্রমিকদের শক্তিশালী করতে হবে এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিকে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে এই সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। প্রধান বক্তা মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, এই সভা শুধু কমিটি গঠনের নয়, এটি শ্রমিক ঐক্যের শপথ গ্রহণের সভা। তিনি শ্রমিকদের রাজপথে সৈনিকের মতো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, এই আন্দোলন বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার নয়, এটি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

তিনি আরও বলেন, দুর্দিনে পালিয়ে যাবে না—এমন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদকাসক্ত ও নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের এই কমিটিতে স্থান হবে না। সভার শেষ পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ কমিটি গঠনের প্রাথমিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ, শক্তিশালী ও কার্যকরী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উপস্থিত শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এই আলোচনা সভা শুধু একটি নতুন কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল শ্রমিক সমাজের অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি মঞ্চ। নেতৃবৃন্দের দৃঢ় বক্তব্য ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি প্রমাণ করেছে—সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা আর নিপীড়নের শিকার হতে রাজি নয়। তারা প্রস্তুত, নেতৃত্বের নির্দেশে রাজপথে নামতে এবং একটি গণতান্ত্রিক, শ্রমিকবান্ধব বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *